Home » সংবাদ প্রকাশের সকল ক্ষেত্রবিশেষে রিপোর্ট লেখার কিছু কৌশল

সংবাদ প্রকাশের সকল ক্ষেত্রবিশেষে রিপোর্ট লেখার কিছু কৌশল

by TRI

বহুমুখীতার যুগে একজন রিপোর্টার শুধুমাত্র একটি মাধ্যমে রিপোর্ট তৈরির কাজ করেন না। একইসাথে কয়েকটি গণমাধ্যমে তিনি কাজ করতে পারেন। এর জন্য তাকে দক্ষ হয়ে উঠতে হয়। হতে হয় একাধারে রিপোর্টার, এডিটর ও প্রকাশক। দক্ষতার প্রশ্নের বিচারে একজন রিপোর্টারকে তাই সকল ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট তৈরির সক্ষমতা থাকতে হয়। নিম্নে রিপোর্ট লেখার কিছু কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

পাঠক কেন মনোযোগী হবেন?

একজন রিপোর্টার দৈনিক হাজারটা রিপোর্টের মধ্যে নিজের রিপোর্টকে তুলে ধরতে চান পাঠকের কাছে। পাঠকপ্রিয়তা ব্যতীত সংবাদ মাধ্যম বেঁচে থাকেনা। তাই রিপোর্টাররা নিজেদের রিপোর্টের মান বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।

রিপোর্ট লেখার ক্ষেত্রে রিপোর্টারের মনে রাখা উচিত পাঠক কেন এই রিপোর্ট পড়বেন? তাই এমন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে সংবাদ লিখতে হবে যার সম্পর্কে পাঠক জানতে চায়।

সম্পূর্ণ সংবাদ নির্ধারণ

একজন রিপোর্টারকে তার রিপোর্টের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশকারী একটি বাক্য নির্ধারণ করতে হবে। এই বাক্যটিতে ‘কে কার জন্যে কী করেছে?’ এই প্রশ্নের অতি সহজ উত্তর থাকতে হবে। এই বাক্যটিকে ‘Focus Sentence’ বলা হয়। এই বাক্যটির দ্বারাই পাঠক সম্পূর্ণ ব্যাপারটি বুঝতে পারবেন। এই বাক্যটিতে ঘটনার কর্তা, ক্রিয়া এবং কর্মের বিবরণ থাকবে।

পাঠকের শিক্ষণীয় বিষয়

এই পর্যায়ে এসে পাঠক ঘটনা/গল্প নিয়ে ভাববেন। তিনি এই ক্ষেত্রে পাঠকের শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন। পাঠক কী আদৌ কিছু শিখবে এই ঘটনা থেকে? অথবা এই ঘটনার বর্ণনা দেখে, শুনে কিংবা পড়ে পাঠকের মনে কী বড় কোন ইস্যু সম্পর্কে ধারণা হবে? রিপোর্টার এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাববেন। সর্বোপরি লেখক তার রিপোর্টকে পাঠক প্রলুব্ধজাত করতে পেরেছেন কিনা! কিংবা নতুন দৃষ্টিকোণ সম্পর্কে পাঠক/দর্শক/শ্রোতা উদ্বিগ্ন কিনা সে বিষয়ে ভেবে সিদ্ধান্ত নিবেন।

বিবৃতি উপস্থাপন

যদি রিপোর্টার কারো কোনো বিবৃতি উপস্থাপন করতে যায়, তাহলে তাকে অবশ্যই সেই ব্যক্তির পরিচয় সহ উপস্থাপন করতে হবে। কে কী বলেছে এর উত্তর উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এটাও গুরুতরভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে ‘বক্তার সাথে ঘটনার সম্পর্ক কী’ তা জানা।

নামহীনভাবেও বিবৃতি উপস্থাপন করা যায়। তবে এক্ষেত্রে পাঠকের প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ থাকে। তাই নিউজ ডিরেক্টর এর অনুমতি ব্যতীত নামহীন বক্তব্য উপস্থাপন করা যায় না।

আরও পড়ুন:  নিউ মিডিয়া আসার ফলে সাংবাদিকতায় কোন ধরণের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে?

ভালো শিরোনাম

একটি ভালো রিপোর্ট যদি দর্শক/পাঠক/শ্রোতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় তাহলে তার একটি ভালো শিরোনাম থাকতে হবে। এর জন্য কয়েকটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া উচিত। যেমন-

ক) দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ,

খ) কথোপকথন ভিত্তিক শিরোনাম,

৩) কর্তৃবাচ্যের ব্যবহার করা।

কাটছাঁট করা

শিরোনাম নির্ধারণের পর রিপোর্টার সংবাদ/গল্পের Body নির্মাণ করবেন। সংবাদের Body তে গিয়ে মানুষের ইতোমধ্যে জানা তথ্যগুলো কাটছাঁট করবেন। কেননা এই তথ্যগুলো পাঠক/দর্শক/শ্রোতার মনে বিরক্তির উদ্রেক ঘটাতে পারে।

পুরনো তথ্যের পরিবর্তে রিপোর্টার নতুন তথ্য উপস্থাপনে বেশি সচেষ্ট হবেন। তিনি নতুন তথ্যগুলোতে বেশি ফোকাস প্রদান করবেন।

যথাযথ শব্দ ব্যবহার

রিপোর্টার তার রিপোর্টের শব্দাবলী সাবলিলভাবে উপস্থাপন করবে। তার শব্দগুলো পাঠককে ঘটনাগুলোর ছবি আকারে উপলব্ধি করাবে। পাঠক সংবাদ পাঠের সময় তার চোখের সামনে ঘটনাগুলো ভাসবে।

রিপোর্টারের শব্দগুলো হবে ভিডিওর পরিপূরক। ভিডিওকে বিশ্লেষণ করা রিপোর্টারের কাজ নয়।

অপ্রীতিকর শব্দ এড়ানো

রিপোর্টার তার রিপোর্ট থেকে অপ্রীতিকর শব্দাবলী বাদ দিবেন। অসম্মানিত করা কিংবা অশ্লীল শব্দাবলী বাদ দিবেন। তবে তিনি পুলিশী রিপোর্ট লিখবেন না। কথোপকথনের ভঙ্গীতে শব্দগুলো উপস্থাপন করবেন।

প্রাকৃতিক শব্দ

ঘটনার সময় কিছু স্পেশাল শব্দাবলী থাকে। সাধারণত এই প্রকারের শব্দগুলো পাঠক/দর্শক/শ্রোতার মনে বেশি দাগ কাটে। এই শব্দগুলোই মূলত পাঠক/দর্শক/শ্রোতাকে সংবাদ গল্প পাঠে উদ্বুদ্ধ করে। যেমন-গুলির শব্দ, বোমার শব্দ, যুদ্ধ বিমানের শব্দ ইত্যাদি।

সাক্ষাৎকার

একটি রিপোর্টে সাক্ষাৎকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা নির্ণয়ে সাক্ষাৎকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাক্ষাৎকারের সময় তাদের বক্তব্যকে রিপোর্টারের লিখে নিতে হয়। 

সমাপ্তি

সমস্ত ভাল সংবাদগুলো একটি শক্ত ও সুন্দর সমাপ্তির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাপ্তির মাধ্যমেই পাঠক/দর্শক/শ্রোতার সম্পূর্ণ তৃপ্তি ঘটে। একটি সফল সংবাদ/গল্প পাঠক/দর্শক/শ্রোতার আবেগে নাড়া দিতে সক্ষম হয়।

কখনো কখনো সমাপ্তিটা সংবাদ/গল্পের শুরুর দিকের তথ্যের সাথে জুড়ে দিয়েও সমাপ্তি টানা যায়। প্রশ্নবোধক লীড দিয়ে শুরু হলে সমাপ্তিটা সাধারণত তার উত্তর দিয়েই শেষ হয়।

পুনরায় পড়া

সংবাদ/গল্পের সমাপ্তি টানার আগে গল্পটি বারবার পুনঃপাঠ করতে হয়। পুনঃপাঠ করাও সংবাদ লেখার একটি অংশ। সংবাদ পুনঃপাঠের পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হলো-

ক) নিজের সংবাদ/গল্প বড় করে পাঠ করা। যেখানে শুনতে খারাপ দেখায় সেখানে পুনঃলিখন করে নেয়া।

খ) সংবাদগল্পের উৎসগুলোর নাম ঠিক আছে কিনা, যথাযথ নামের বানান ও পদবী সঠিকভাবে উল্লেখ করা।

গ) আমলাতান্ত্রিক শব্দাবলী পরিহার করা। সহজবোধ্য ভাষায় তা উপস্থাপন করা।

ঘ) সাউন্ড ছাড়া ভিডিও দেখা। তারপর ভিডিও ছাড়া নিজের সংবাদগল্প শোনা।

ঙ) বিশেষণগুলো বাদ দেয়া। দর্শকদের এমনভাবে ভিডিও দেখানো যেন তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছে।

চ) সাক্ষাৎকারের যেন দ্বিরুক্তি না ঘটে এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে হবে।

Related Posts